ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিজেপির সাবেক সভাপতি এবং দলের পরিচিত মুখ দিলীপ ঘোষ বিয়ে করেছেন তারই দলীয় সহকর্মী রিঙ্কু মজুমদারকে। এই খবরে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে চাঞ্চল্য ও ব্যাপক আলোচনার ঝড়। রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমেও এই বিষয়টি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
আলোচনার পেছনে মূলত দুটি বড় কারণ রয়েছে। প্রথমত, দিলীপ ঘোষের বয়স বর্তমানে ৬১ বছর। দ্বিতীয়ত, তিনি এক সময় রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আরএসএস)-এর একজন ‘প্রচারক’ হিসেবে কাজ করেছেন। আরএসএস-এর প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, প্রচারকরা সাধারণত অবিবাহিত থাকেন এবং বিবাহ থেকে দূরে থাকেন। ফলে তার বিয়ের সিদ্ধান্তে অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করছেন।
এ বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গের আরএসএস নেতা ড. জিষ্ণু বসু বলেন, “প্রচারকরা বিয়ে করতে পারেন না—এটা গুরুজী গোলওয়ালকরের আমল থেকেই প্রচলিত নিয়ম। তবে দিলীপদার বিয়ে নিয়ে সঙ্ঘের কেউ বিস্মিত নয়। বরং সংবাদমাধ্যমেই বেশি আলোচনা দেখা যাচ্ছে। যারা বছরে একবারও সঙ্ঘ নিয়ে কিছু লেখে না, তারাই এখন সবচেয়ে বেশি উৎসাহ দেখাচ্ছে।”
জানা গেছে, দিলীপ ঘোষ যখন বিজেপির রাজ্য সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন থেকেই তিনি আর আরএসএস-এর প্রচারক ছিলেন না। সুতরাং, প্রচারকের অবিবাহিত থাকার নিয়ম তার ক্ষেত্রে আর প্রযোজ্য ছিল না।
দিলীপ ঘোষের ঘনিষ্ঠ একাধিক নেতা জানিয়েছেন, তার মা, যিনি বর্তমানে অশীতিপর, দীর্ঘদিন ধরেই ছেলের সংসার শুরু করার ইচ্ছা পোষণ করে আসছিলেন। গত চার-পাঁচ বছর ধরে তিনি দিলীপ ঘোষকে বিয়ের জন্য উৎসাহ দিয়ে আসছিলেন। এই মায়ের ইচ্ছাকে বাস্তবে রূপ দিতে শেষমেশ বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন দিলীপ ঘোষ।
দলীয় এক ঘনিষ্ঠ নেতা জানিয়েছেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে জানি, দিলীপদার মা বেশ কিছুদিন ধরেই উপযুক্ত পাত্রীর খোঁজ করছিলেন। তখনই রাজনীতির ময়দানে দিলীপদার সঙ্গে রিঙ্কু মজুমদারের পরিচয় হয় এবং ধীরে ধীরে তারা একসঙ্গে জীবন শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন। দলের সবাই বিষয়টি খুব স্বাভাবিকভাবেই নিয়েছে।”
বিয়ের বিষয়টিকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও, বিজেপির ভেতরে বিষয়টি নিয়ে তেমন কোনো বিতর্ক নেই। বরং দলীয় নেতাকর্মীরা দিলীপ ঘোষের এই নতুন জীবনের জন্য শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
৬১ বছর বয়সে এসে নতুন জীবন শুরু করেছেন পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতির পরিচিত মুখ দিলীপ ঘোষ। আরএসএস-এর প্রচারক থাকাকালীন সময়ের নিয়ম ও বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে কিছুটা আলোচনা সৃষ্টি হলেও, পরিবার ও দলের সমর্থনে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ তার ব্যক্তিগত জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: দৈনিক জনকণ্ঠ
পিডিএফ নিউজ ২৪ ঘণ্টা বাংলার খবর